পূর্ব প্রকাশের পর…
নবিসাবের ঘুম ভেঙেছে। বুকের ঘোর এখনো কাটছে না।
স্ত্রী খাদিজার মনে কিন্তু বিন্দুমাত্র সন্দেহ নিই। তিনি নিশ্চিত, আল-আমিন কখনো মিথ্যে বলেন না।
নবিসাবের নতুন মিশন শুরু হলো। তাঁর ডাকে সবার আগে সাড়া দিলেন তাঁরই আজাদ গোলাম জাইদ বিন হারিসা।
বিবি খাদিজাও চলছেন সমান তালে—তবে রাখঢাক রেখে। প্রথমে খবরটা তুললেন তাঁর কাজিন ওয়ারাকা বিন নাওফালের কানে। তিনি ছিলেন সেই আমলের মস্ত বড় সাধক আর জ্ঞানী মানুষ।
স্বামীর কাছে আসা গায়েবি ডাকের সব খবর ভেঙে বললেন তাঁকে। নিজের অগাধ জ্ঞান আর ইঞ্জিলের জ্ঞানের সাথে হিসেব মিলিয়ে ওয়ারাকা রায় দিলেন, মুহাম্মাদ সত্যি সত্যি আল্লাহর রাসুল।
নবিসাবের কাছের বন্ধু ছিলেন আবু বাক্র। তাঁকে জানালেন সব খবর।
আবু বকরের স্বভাবটা ছিল ভারী সুন্দর। মক্কার মানুষ তাঁকে বড্ড ভালোবাসে। সব সময় একটা হাসি লেগে থাকে তাঁর মুখে।
কোরেশদের বংশতালিকা তাঁর চে ভালো জানে আর কে।
পেশায় ছিলেন ব্যাবসায়ী। তবে তাঁর জ্ঞানের টানে, তাঁর থেকে ব্যাবসার বুদ্ধি পেতে লোকজনের আনাগোনা লেগেই থাকত তাঁর কাছে।
ইসলামের কথা ছড়াতে নামলেন তিনিও। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে মুসলিম হলেন উসমান, আবদুর রহমান, তালহা, সাদ, জুবাইর আর আবু উবাইদা।
এই সময়ে মুসলিমরা নামাজ পড়তেন মক্কার পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে।
এক নতুন নির্দেশ নিয়ে এল নতুন ওহি—
‘আপন আত্মীয়স্বজনকে সাবধান করো। তোমার ডাকে যারা একিন করেছে, পরম আদরে তাদের ডানা দিয়ে ঢেকে রাখো। এরপরও যদি তারা অবাধ্য হয়, তাহলে সাফ জানিয়ে দিও—তোমাদের এসব কাজের দায়ভার আমার না।’
আমাদের নবিসাব গিয়ে দাঁড়ালেন সাফা পাহাড়ের চূড়ায়। হাঁক দিলেন সবাইকে। ডাক শুনে সবাই ছুটতে ছুটতে এল তাঁর কাছে। সবার মুখে একই কথা, ‘কী ব্যাপার? কী হয়েছে?’
তিনি বললেন, ‘আচ্ছা, যদি বলি এই পাহাড়ের পেছনে এক সেনাদল ঘাপটি মেরে আছে হামলার জন্য, বিশ্বাস করবেন?’
সবাই একসাথে জবাব দিলেন, ‘অবশ্যই করব! তুমি তো আমাদের কাছে একদম নিখাদ। কোনো দিন তোমার মুখে মিথ্যে শুনিনি আমরা।’
নবিসাব বললেন, ‘শুনুন তা হলে। সামনে এক কঠিন শাস্তি আসছে। আমি সেই শাস্তির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করছি আপনাদের। বানু আবদিল মুত্তালিব, বানু আবদু মানাফ, বানু জাহরা, বানু তাইম, বানু মাখজুম, বানু আসাদ—শুনুন ভালো করে। আল্লাহ আমাকে হুকুম দিয়েছেন আপন আত্মীয়দের সাবধান করতে। আপনারা শুধু এই একটা কথা মানুন, ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোনো প্রভু নেই।’ না হলে এপারে কি ওপারে আমি কোথাও কারও উপকার করতে পারব না।’
ভিড়ের মাঝে ছিলেন আবু লাহাব। লোকটা যেমন মোটা, রাগও তার তেমনই চড়া।
তিনি খেপে চিৎকার করলেন, ‘বরবাদ হোক তোমার আজকের দিনটা! এসব ফালতু কথার জন্য আমাদের ডেকে এনেছ?’
নবিসাব একটু থমকে গেলেন। আপন চাচার দিকে একবার তাকালেন তিনি।
কিন্তু বেশিক্ষণ পেরোল না, আসমান থেকে ওহি এলো আবার—
‘বরবাদ হোক আবু লাহাবের দুই হাত আর সে নিজেও! তার ধনসম্পদ আর যা কিছু সে কামাই করেছে, কোনো কিছুই তার কাজে আসবে না। শিগগিরই সে গিয়ে পড়বে লেলিহান আগুনে।’
সেইদিন থেকেই শুরু হলো আসল লড়াই। আবু লাহাব, আবু সুফিয়ান আর কোরেশ নেতারা একের পর বাধা তৈরি করতে লাগলেন। মারামারি জুলুম করতেও তারা কসুর করলেন না।
কিন্তু আমাদের নবিসাব তো পাহাড়ের মতো! একটুও দমলেন না। শক্ত হাতে সব সামলাতে লাগলেন।
কোরেশদের মাথা খারাপ। যে করেই হোক মুহাম্মাদকে আটকানো চাই।
কিন্তু কীভাবে আটকাবে? যাঁর ডান হাতে সূর্য আর বাঁ হাতে চাঁদ এনে দিলেও পিছু হটবেন না তাঁকে থামাবে কে?
হয় আল্লাহ এই ধর্মকে জেতাবেন। নয়তো এই পথে তিনি জান কোরবান করবেন।
কোরেশরা এবার নবিসাব আর তাঁর সাথিদের ওপর বাড়িয়ে দিল জুলুমের মাত্রা।
মুসলিমরা মুখ বুজে সব সইতে লাগলেন। যন্ত্রণার এই দিনগুলোতে নবিসাব তাঁদের বুকে সাহস জোগাতেন। বলতেন, পড়শির দেওয়া কষ্ট হাসিমুখে সয়ে নেওয়াটা পোক্ত ঈমানের পরিচয়।
এরই মাঝে ঘটে গেল এক আজিব ঘটনা। নবিসাবের আপন চাচা হামজা ইসলাম বরণ করলেন।
একের পর এক কত বাধা চারিদিকে। কিন্তু মুসলিমরা থামবার পাত্র নন। তাঁরা ব্যস্ত সত্য, সুন্দর আর মঙ্গল ছড়াতে।
কিন্তু কোরেশদের নির্যাতন তো আর কমে না। সাথিদের এই নিদারুণ কষ্ট দেখে নবিসাবের বড্ড মায়া হলো। তিনি কয়েকজনকে বললেন হাবশায় চলে যেতে।
একদল মুসলিম দেশ ছেড়ে পাড়ি জমালেন সেখানে। হাবশার রাজা নাজাশি তাঁদের আপ্যায়ন করলেন। সেখানে তাঁরা নিশ্চিন্তে ধর্ম পালন করতে লাগলেন।
মক্কায় ওদিকে ইসলামের দাওয়াত জোরদার হলো আরও। মানুষের মুখে মুখে এখন এই একই রা।
ঠিক এই সময়ে মুসলিম হলেন উমার। একধাক্কায় মুসলিমদের বুকে বল বেড়ে গেল অনেক খানি।
এই প্রথমবার সবাই মিলে নামাজ পড়লেন কাবার আঙিনায়।
এভাবেই কাটছে দিনরাত।
একদিকে মুসলিমদের এমন শক্ত অবস্থান। অন্যদিকে মক্কার অহংকারী নেতা আর গণ্যমান্যদের থেকে আসা পদে পদে বাধা আর কষ্ট।
আমাদের নবিসাব পাহাড়ের মতো সব সামলে যাচ্ছিলেন।
নবিসাবের মনে কিন্তু কোনো খেদ নেই। বরং তাঁর তৃপ্তি আর বিশ্বাস আরও পোক্ত হচ্ছে। যারা এত কষ্ট দিচ্ছে, তাদেরও তিনি ক্ষমা করে দিচ্ছেন পরম মমতায়।
ওদিকে মক্কার মুশরিকরা তো খেপে আগুন। নবিসাব আর তাঁর সাথিদের একঘরে করে দিল তারা।
কী কঠিন সে বয়কট! কেউ তাদের সাথে কথা বলবে না, বেচাকেনা করবে না, এমনকি বিয়েশাদিও চলবে না। মায়া-দয়ার কোনো বালাই রইল না তাদের মনে।
বাধ্য হয়ে নবিসাব আর মুসলিমরা আশ্রয় নিলেন মক্কার এক পাহাড়তলিতে।
টানা তিন তিনটে বছর সেখানে কাটালেন তাঁরা। দিনের পর দিন না খেয়ে আছেন। কী যে কষ্ট।
কিন্তু এত কষ্টের পরও নবিসাব আর তাঁর সাথিদের বুকের জোর একটুও কমল না।
বছর ঘুরে পবিত্র মাসগুলোতে নবিসাব নেমে আসতেন মক্কায়। বিভিন্ন গোত্রের কাছে বলতেন ইসলামের কথা। কেউ কেউ তাঁর কথায় মুগ্ধ হয়ে সত্যে বেছে নিতেন।
মুসলিমদের সৎ স্বভাবে অনেকের মনেই মায়া জাগত। কিন্তু আবু লাহাব, আবু জাহল আর তাদের দলবলের রাগ যেন কিছুতেই পড়ে না! তাদের জুলুম আর অহংকার দিন দিন কেবলই বাড়ে।
এভাবে কি আর চলা যায়!
কোরেশদেরই পাঁচজন একদিন গোপনে একজোট হলেন। হিশাম বিন আমর হলেন তাদের নেতা। তারা ঠিক করলেন, এই অমানবিক বয়কটের চুক্তিপত্রটা এবার ছিঁড়ে ফেলতে হবে।
পরদিন সকালে কাবাঘরে এলেন জুহাইর বিন আবু। সাতবার তাওয়াফ শেষ করে তিনি সবার সামনে হাঁক দিলেন, ‘মক্কাবাসী! আমরা পেটপুরে খাব, ভালো ভালো কাপড় পরব আর বানু হাশিম না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরবে? এটা তো হতে পারে না! আল্লাহর কসম, এই বেইনসাফি চুক্তিপত্র ছিঁড়েই তবে আমি আজ শান্ত হব না!’
কথাগুলো কানে যেতেই তেড়ে এলেন আবু জাহল। জোর গলায় বললেন, ‘বাজে কথা! আল্লাহর কসম, এটা ছেঁড়া হবে না।’
কিন্তু এবার আর আবু জাহলের একনায়কতন্ত্র খাটল না। ভিড়ের ভেতর থেকে জামআ, আবুল বাখতারি, মুতইম আর হিশাম ইবনু আমর চেপে ধরলেন আবু জাহলকে। জুহাইরকে সমর্থন জুগিয়ে তাঁরা আবু জাহলের কথার জোরদার প্রতিবাদ করলেন। আবু জাহল বুঝতে পারলেন, খেলা হাতছাড়া! রাতের আঁধারেই সব পাকাপাকি হয়ে গেছে।
ভয় পেয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেলেন তিনি। মুতইম পা বাড়ালেন চুক্তিপত্রটা ছিঁড়তে।
কিন্তু কাবার ভেতরে ঢুকতে চোখ কপালে উঠল তার। উইপোকায় যে খেয়ে সাবাড় করে দিয়েছে পুরো চুক্তিপত্র। শুধু ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ (আল্লাহ, তোমার নামে) ছাড়া আর কিচ্ছু বাকি নেই!
অবসান হলো দীর্ঘ বন্দিদশার। পাহাড়তলি ছেড়ে নবিসাব আর তাঁর সাথিরা আবারও মক্কায় ফিরে এলেন। শুরু হলো স্বাভাবিক বেচাকেনা আর মেলামেশা।
তবে দুই পক্ষের ভেতরের সেই পুরোনো টানাপোড়েনটা কিন্তু ঠিকই রয়ে গেল। সবাই যেন ভেতরে ভেতরে তৈরি হতে লাগল সামনের কোনো এক চূড়ান্ত ফয়সালার দিনের জন্য।
নবিসাবের জীবনে আবার নেমে এল শোকের ছায়া। মারা গেলেন আপন চাচা আবু তালিব। বিদায় নিলেন প্রিয় স্ত্রী খাদিজা। কে আর রইল তাঁর কষ্টে ভরসা দিতে?
মক্কার মানুষদের পাথর-কঠিন মন আর জুলুমের বহর দেখে নবিসাব বড্ড হাঁপিয়ে উঠলেন। ভাবলেন, তায়িফে গিয়ে দেখি।
কিন্তু সেখানে গিয়ে তো আরও বিপদ! তায়িফের লোকেরা কোরেশদের চেয়েও এককাঠি সরেস। চরম দুর্ব্যবহার করল তাঁর সাথে।
মন খারাপ করে নবিসাব ফিরলেন মক্কায়। হজের মৌসুমে বিভিন্ন গোত্রের কাছে ইসলামের কথা বলতে লাগলেন। গেলেন কিনদা, কাল্ব, বানু হানিফা আর বানু আমির ইবনু সাসার ডেরায়। কিন্তু কেউ তাঁর কথায় কান দিল না। বানু হানিফা তো উল্টো চরম অপমান করল।
আপন মানুষদের এমন নিষ্ঠুর আচরণে নবিসাবের মনটা বড্ড বিক্ষিপ্ত।
এমন সময় এল এক অভাবনীয় রাত। জিবরিল এসে তাঁকে নিয়ে গেলেন বাইতুল মাকদিসে। এরপর ওপরের মহাকাশে। সাত মহাকাশ পেরিয়ে নবিসাব নিজের চোখে দেখলেন মহীয়ান প্রভুর অনিশেষ জ্যোতি। অন্য নবিরা যেভাবে প্রভুর নির্দেশ পেতেন, তিনিও পেলেন।
মিরাজের এই অবাক করা ঘটনার কথা শুনে চারদিকে হুলুস্থুল কাণ্ড! কোরেশদের সে কি অট্টহাসি। দুর্বল ইমানের মুসলিমরাও পড়ল ধন্ধে।
আবার এল হজের মৌসুম। এবার মক্কায় এলেন ইয়াসরিবের খাজরাজ গোত্রের কয়েকজন।
নবিসাবের মুখে সত্যের ডাক শুনে তাঁরা মুসলিম হলেন। হয়ে গেল আকাবার প্রথম শপথ। তাঁরা ইয়াসরিবে ফিরে ঘরে ঘরে ছড়াতে লাগলেন ইসলামের কথা।
বছর ঘুরতেই এর দারুণ ফল মিলল। ইয়াসরিব থেকে এবার পঁচাত্তর জন মুসলিম মক্কায় এলেন—তেহাত্তর জন পুরুষ আর দুজন নারী।
রাতের ঘুটঘুটে আঁধারে নবিসাবের সাথে তাঁরা গোপনে দেখা করলেন। দিলেন আকাবার দ্বিতীয় শপথ। কথা দিলেন, ‘আমরা নিজেদের বউ-বাচ্চাদের যেভাবে আগলে রাখি, আপনাকেও ঠিক সেভাবে আগলে রাখব।’
কোরেশদের কানে পৌঁছাল এই দ্বিতীয় শপথের খবর। শুনে তো তাদের আক্কেলগুড়ুম! এটা কি আসলেই সত্যি, না গুজব?
আসল ঘটনা বের করতে তারা ছুটল ইয়াসরিবের কাফেলার পিছু পিছু।
ধরা পড়লেন সাদ বিন উবাদা। কোরেশরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে মক্কায় নিয়ে এল। শুরু হলো অমানুষিক মারধর।
শেষে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন জুবাইর আর হারিস। সাদ আবার তাদের ব্যাবসার কাফেলাকে ইয়াসরিব পার হওয়ার সময় নিরাপত্তা দিতেন। সেই খাতিরে তারা সাদকে ছাড়িয়ে নিলেন।
নবিসাব এবার সাথিদের নির্দেশ দিলেন ইয়াসরিবে চলে যেতে। তবে সবাই একজোট হয়ে নয়; বরং আলাদাভাবে, ছোট ছোট দলে।
মুসলিমরা একে একে মক্কা ছাড়তে লাগলেন। কিন্তু কোরেশরা তো আর অলস বসে নেই; সব টের পেয়ে গেল। মরিয়া হয়ে উঠল এই দেশান্তরি ঠেকাতে। যাকে পারল পথ থেকে ধরে আনল। তারপর শুরু করল এমন নির্যাতন—বলে বোঝানো যায় না। যে-করেই হোক এদের ধর্মছাড়া করতেই হবে।
এত নিচে নামল তারা—স্বামী-স্ত্রীকেও আলাদা করে দিল তারা। কিন্তু এত কিছু করেও কি মুসলিমদের ঠেকানো গেল?
ইয়াসরিবের দিকে মুসলিমদের কাফেলা ছুটছে নিরন্তর।
আবু বকর এলেন নবিসাবের কাছে। হিজরতে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন তিনি। নবিসাব তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘তাড়াহুড়ো করো না। আল্লাহ হয়তো তোমার জন্য দারুণ একজন সাথি মিলিয়ে দেবেন।’
আবু বকর অধীর আগ্রহে সেই পথ চেয়ে রইলেন।
কোরেশরা আবার বসল মিটিংয়ে। এই সমস্যার তো একটা পাকাপাকি রফা দরকার! সবাই মিলে এক ভয়ংকর ফন্দি আঁটল। সব গোত্র থেকে একজন করে জোয়ান বাছাই করা হবে। সবার হাতে তুলে দেওয়া হবে ধারালো একখানা তলোয়ার। তারপর সবাই মিলে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়বে মুহাম্মাদের ওপর।
তাঁর রক্তের দায়ভার কারও একার ঘাড়ে পড়বে না তা হলে। আর বানু আবদু মানাফ তো আর সবার সাথে একা লড়তে পারবে না! তারা রক্তপণ নিয়েই শান্ত থাকবে। কোরেশরাও রেহাই পাবে এই আপদ থেকে চিরতরে।
বাছাই করা জোয়ানেরা রাতের আঁধারে ঘিরে ফেলল নবিসাবের বাড়ি। কোনোভাবেই তাঁকে পালাতে দেয়া যাবে না।
এমন কঠিন সময়ে এল খোদার হিজরতের হুকুম।
নবিসাব তাঁর বিছানায় আলিকে শুইয়ে নিজের চাদরে ঢেকে দিলেন। তারপর অপেক্ষায় থাকা ঘাতকদের চোখে ধুলো দিয়ে পা টিপে টিপে বেরিয়ে এলেন বাড়ি থেকে। সোজা চলে গেলেন আবু বকরের বাড়ি।
দুই সাথি মিলে রওনা হলেন ইয়াসরিবের আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে।
ইমানের খাতিরে হিম্মতের এক নতুন গল্প রচনা করলেন তাঁরা ইতিহাসের পাতায়।
চলবে..