অনুবাদ কবিতাগুচ্ছ

তুমি কি তাইলে লেখক হইতেই চাও?


মূল : চার্লস বুকোস্কি

লেখা যদি তোমার ভেতরের সবকিছু ভেঙেচুরে বেরিয়ে না আসে

তাইলে লেইখো না

.

যদি বিনা আবদারে তোমার মুখচিরে, তোমার বুকচিরে অন্তঃপুর থেকে বেরিয়ে না আসে শব্দের ঝরনা

তাইলে লেইখো না

.

যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে কিবোর্ড হাতড়ে বেড়াতে হয় শব্দের তালাশে

তাইলে লেইখো না

.

লেখালেখির পেছনে যদি বৈভব ও সমীহের প্রলোভন থাকে সক্রিয়

তাইলে লেইখো না

.

যদি এই সাধনার পেছনে থাকে নারীদেহ লাভের বিকৃত বাসনা

তাইলে লেইখো না

.

যদি পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখার পরেও সাদা পাতার চেয়ে অর্থময় না হয় তোমার আঁকিবুঁকি

তাইলে লেইখো না

.

তোমার কল্পরাজ্যের পুরোটা যদি লেখালেখির নামে নিলামে তুলতে না পারো

তাইলে লেইখো না

.

তুমি যদি আরেকজনের মতো করে লিখতে চাও

তাইলে লেইখো না

.

অন্তঃস্থ হাহাকারের মোড়ক উন্মোচনে যদি অপেক্ষা করতে হয়

তবে ধ্যানমগ্ন হও সে প্রতীক্ষায়

কিন্তু হৃদয়মথিত সে বেদনা যদি কখনোই সাড়া না দেয়

তাইলে অন্যকিছু করো; লেইখো না

.

তোমার লেখা যদি প্রথমে তোমার বৌ-বন্ধু বা অন্য কাউকে পড়ে শোনানো দরকারি হয়ে ওঠে

তাইলে তুমি এখনো রেডি না

.

তথাকথিত লেখকদের মতো স্থবির বোরিং ও দাম্ভিক হইয়ো না, 

পইড়ো না আত্মতৃপ্তির ফাঁদে

গড়পড়তা মেধাবীদের ঘন ঘন প্রসবে এমনিতেই নাজেহাল দুনিয়ার লাইব্রেরিগুলা

সেখানে তুমি আবার নতুন করে কাগুজে সন্তান আনার ঝামেলায় জড়ায়ো না

.

যদি না তোমার অন্তঃস্থল থেকে সে লেখা বিদ্যুৎবেগে বেরিয়ে আসে

যদি না তোমার ভেতরের শব্দেরা বেরিয়ে আসতে খুনোখুনি শুরু করে

লিখতে না-পারলে যদি না তোমার পাগল পাগল লাগে

তাইলে লেইখো না

.

ব্যক্তিগত সূর্য যাবতীয় অস্তিত্ব পুড়িয়ে যদি লেখার কালি তৈরি না করে

তাইলে লেইখো না

.

লেখক হওয়ার জন্য তুমি যদি নির্বাচিত হয়েই থাকো

তাইলে সে বক্তব্য তোমার হাত ধরে লিখিত হবেই

যদি না সে বক্তব্যের জন্য তুমি মারা যাও 

অথবা সে বক্তব্য মরে যায় তোমার ভেতরে

.

এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নাই

কখনো ছিলও না

এই দেশ 


মূল : আহমাদ মাতার 

যে টাকা দিয়ে আমরা পরিবার-পরিজনের দেখভাল করতে পারতাম,
সেই অর্থ একদল পশু ধ্বংস করছে ইচ্ছামতো জুয়া খেলে। 
এগুলো নাকি তাদের বাপ-দাদার সম্পদ—
কারণ, এই খোঁয়াড়ের পাশ দিয়ে অন্যদের বলদের আগে গেছে তাদের বলদ।
আল্লাহর কসম, এই জমিন আমাদের
এই জমিনে উদ্গত ফসল আমাদের 
এই জমিনের খনিজ-সম্পদ আমাদের
এই দেশ এবং এর ভূত-ভবিষ্যতও আমাদের
অথচ সে আমরাই শীতের সময় পরার মতো কাপড় পাই না
ক্ষুধার জ্বালা মেটানোর জন্য পাই না খাদ্য
উন্নয়নের মহাসড়কে খাবি খাচ্ছি আমরা
এই হারামজাদাদের কল্যাণে আমাদের অভাব, দুর্ভিক্ষ এবং লাঞ্ছনার নাম হয়ে গেছে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি

জঙ্গলের নিয়ম

মূল : জেহরা নিগাহ

শুনেছি, জঙ্গলেরও নাকি কিছু নিয়ম আছে
শুনেছি, পেট ভরে গেলে বাঘও নাকি হামলা করে না আর 
গাছের নিবিড় ছায়ায় বসে আরাম করে
ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল দুলে উঠলে ময়না নাকি নিজের ছানাদের রেখে মশগুল হয়ে পড়ে কাকের ডিমের হেফাজতে

শুনেছি, বাসা থেকে পাখির কোনো ছানা পড়ে গেলে পুরো জঙ্গল জেগে ওঠে
শুনেছি, পানিতে বাবুই পাখির বাসার শিল্পিত ছায়া পড়লে নদীর রুপালি মাছেরা তাদেরকে প্রতিবেশী হিসেবে মেনে নেয়

কখনো ঝড়বাদলে জঙ্গল প্লাবিত হলে সাপ, কাঠবিড়ালি, বকরি, চিতা গাছের টুকরো ধরে একসাথে ভেসে থাকে

শুনেছি, জঙ্গলেরও নাকি নিয়ম আছে
ওগো দিনদুনিয়ার মালিক, ও পরোয়ারদিগার
আমার এই দেশে জঙ্গলের কোনো নিয়ম অন্তত চালু করে দাও

Write a Comment

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *