আগুনের জল

প্রিয় রিংটোনটা বাজছে ওয়াহাবের মোবাইলে। একবার, দুইবার, বারবার। একটা লাভ ইমোজির সাথে যে নামটা স্ক্রিনে ভেসে উঠল তা দেখে কেঁপে উঠল আয়েশা আবিদা। তিন বাই সাড়ে তিন ইঞ্চির অ্যানড্রয়েডের স্ক্রিনটাতে বারবার নামটা ভেসে উঠছে। আম্মু।

ঠিক সাইলেন্ট নয়। তবে সাউন্ডটা বেশ নামানো। ভাইব্রেশান না হলেও ভোঁ ভোঁ আওয়াজ হচ্ছে। একনজর দেখে কী করবে বুঝতে না পেরে মোবাইলটা সাইলেন্ট করে রাখলো আবিদা। এরপর বারবার কল আসতে লাগল। যতবার বাতিটা জ্বলে ওঠে, ততবার আবিদার হৃৎপিণ্ডে কে যেন হাতুড়ি পেটায়। একবার ভাবে, না হয় ধরি। বলে দিই। এক সময় না এক সময় তো জানবেনই। কিন্তু বিপরীত দিক থেকে কী রিঅ্যাকশন আসবে তা ভেবে রিসিভ করার সাহস পাচ্ছে না সে। ততক্ষণে স্ট্রেচারে রাখা ওয়াহাবের দেহটা নিথর হয়ে এসেছে। সাদা কাপড়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জায়গাটা লাল হয়ে আছে রক্তে। ভিজে গেছে সাদা কাপড়ের একটা অংশ।

হাসপাতালের করিডোরে দশ-বারো জন বন্ধু একসঙ্গে চিৎকার করে উঠল। ওয়াহাব রে…! আমাদের ছেড়ে চলে গেলি দোস্ত!

সবার চোখে জল। কিন্তু আবিদার চোখে আগুন। ওয়াহাবের হাতটা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। এগিয়ে গেল ডক্টরর্স রুমের দিকে। পেয়ে গেল সেই ডাক্তারকে যে কি না আন্দোলন করে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আসায় ভর্ৎসনা করেছিল ওয়াহাবদের। তিনি নাকি শাসক দলের চিকিৎসক সংগঠনের মাঝারি গোছের নেতা। হাসপাতালে তার অনেক দাপট। আন্দোলনে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসাদের সেবা দিতে মানা করে দেন। কিন্তু সময় এক রকম থাকে না। একটা সময় সাধারণ ও সরকার দলের বাইরে অন্যমতের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাল্লা ভারি হয়ে যায়। তারা ওদের বাধা উপেক্ষা করে সেবা দিতে এগিয়ে আসে। সেজন্যই হাসপাতালের ভেতর তারা প্রবেশ করতে পেরেছে। কিন্তু ফ্যাসিস্টের দোসর স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের চরম অবহেলা করেছে। বিশেষ করে ওই ডাক্তারের অবহেলার কারণেই ওয়াহাব কার্যত কোনো চিকিৎসায় পায়নি। চেঁচামেচি করে লাভ হয়নি তখন। আবিদা সেই চিকিৎসকের খুব কাছে চলে গেছে। চোখ দিয়ে তখন তার আগুন ঝরছে। একদলা থুথু ছিটিয়ে দিল সেই চিকিৎসকের মুখে। ডক্টরর্স রুমে তিন-চার জন বসা ছিল। সবাই হতভম্ব। থুথু খাওয়া চিকিৎসকও নির্বাক। বিস্মিত চোখে চেয়ে আছে আবিদার দিকে। গর্জন করে উঠে দাঁড়াতে যাবে ঠিক সেসময় হুংকার দিয়ে উঠল আবিদা। স্টপ, ডোন্ট মুভ! টেবিলের ওপর রাখা গজ কাটার কাঁচিটা হাতে নিয়ে বলে উঠল, একদম সেঁধিয়ে দেবো! ফ্যাসিস্টের দালাল, জানোয়ার!!

সাথের সহপাঠীরাও গর্জে ওঠায় থেমে যান ডাক্তার। চারপাশে তাকিয়ে পরিস্থিতি আঁচ করতে চেষ্টা করেন। মনে হচ্ছে চোখের আগুনে ভস্ম হয়ে যাবেন তিনি। এতদিন সাধারণ মানুষের চোখে সরকার পক্ষের মানুষের প্রতি যে ভয় দেখে আসছে আজ যেন তা নেই। পরিস্থিতি ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। তাহলে কি সত্যিই সরকারের পতন হতে চলেছে! দৃষ্টি নত করেন ডাক্তার।

রাগে গজগজ করতে করতে ডক্টরর্স রুম থেকে বেরিয়ে আসে আবিদা। তার সাথে আরও কয়েকজন। সবাই তখন ওয়াহাবের মৃতদেহ ঘিরে রেখেছে। বুঝতে পারছে না কী করবে। হাসপাতালের খাতায় ভর্তি লেখানো আছে। টিকিট করে এন্ট্রি দিয়ে তারপর তো চিকিৎসা। সরকারি হাসপাতালের নিয়ম বলে কথা। কয়েকজন মিলে পাঁজাকোলা করে ধরল ওয়াহাবের মরদেহ। চিৎকার করে শ্লোগান তুলল, ‘আমার ভাই মরল কেন? জবাব চাই, দিতে হবে।’

ওয়াহাবের মৃতদেহ কোলে নিয়ে মিছিল শুরু হয়ে গেছে। চারদিকে কেমন থমথমে অবস্থা। পুরো শহর নয় সারাদেশ অনিশ্চয়তায় আছে। স্নাইপারে গুলি হয়েছে সকালেও। অনেকেই মারা গেছে। আর কত লাশ পড়বে কে জানে। শোনা যাচ্ছে মানুষ আসছে দলে দলে। সব শ্রেণি পেশার মানুষ। হেঁটে হেঁটে শ্লোগানে শ্লোগানে গণভবন অভিমুখে তাদের যাত্রা। এ যাত্রা হওয়ার কথা ছিল একদিন পর। ছয় আগস্ট। কিন্তু সরকারের পলিসিতে আন্দোলনকারীদেরও সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এসেছে। এমনিতেও ক’দিন ধরে মানুষ কাজে বের হতে পারছে না। নিতান্ত দায়ে না পড়লে ঘর থেকেই বেরুচ্ছে না কেউ। যারা বের হচ্ছে তারা হয় আন্দোলনের জন্য, না হয় আন্দোলন ঠেকানোর দায়ে। সরকারের অথবা ফ্যাসিস্টদের পেটোয়া বাহিনী। চলছে অনিবার্য সংঘর্ষ। হতাহত হচ্ছে বেশুমার। সব জুলুম নির্যাতন সয়ে গুলির মুখেই মানুষ বের হয়েছে পথে।

মৃতদেহ নিয়ে মিছিল চলে গেছে শহীদ মিনারের দিকে। আবিদা কিছুটা এগিয়েও ছিল। হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যায় সে। শরীর দুর্বল। কদিন ধরে রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে। আরাম-বিশ্রাম বলতে রাতের সময়টুকু। সারাদিনে একবারের বেশি খাওয়া হয় না। পড়ে যেতে দেখে দুতিনজন সহপাঠী কাছে আসে। হাত ধরে তুলতে সাহায্য করে তাকে। উঠে দাঁড়ায় সে। নিচে তাকিয়ে দেখে রক্তের ওপরই পা পিছলে পড়েছে সে। হয়তো ওয়াহাবের, নয়তো অন্য কারও রক্ত। শরীরটা ঝাঁকি দিয়ে উঠল তার। হাসপাতালের বারান্দায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। এই প্রথম নিজেকে বড় পরিশ্রান্ত মনে করল আবিদা। প্রিয় সহপাঠী ওয়াহাবের মৃত্যুটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। বসে পড়ে বলল, ‘তোরা যাহ! আমি পারছি না। এখানে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি। যা-আআ তোরা…!’

হাসপাতালের বারান্দায় পা ছড়িয়ে বসে পড়লো আবিদা। আরও দুটো ট্রলি ঠেলে আহত দুজনকে ভেতরে নিয়ে গেল। গত কয়েকদিনে কতজনের মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে হিমঘরে রাখা হয়েছে। যাদের স্বজনরা জানতে পেরেছে, তারা অনেকে পাগলের মতো ছোটাছুটি করছে প্রিয়জনের লাশের জন্য। হাসপাতালের দৃশ্যটা অসহনীয়। গত কয়েক ঘণ্টায় সেটা বুঝতে পারছে আবিদা।

ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর আলো জ্বলে উঠল। চেইন খুলে মোবাইলটা বের করল আবিদা। ওয়াহাবের মোবাইল। তার মায়ের কল। লাভ ইমোজির সাথে আম্মু লেখা। স্ক্রিনে ভেসে আছে একুশটা মিসড কল। আবিদা ফোনটা ধরছে না। কী বলবে তার মাকে? বলবে, আপনার ছেলে শহিদ হয়েছে? একটা ছেলে ও একটা মেয়ে মধ্যবয়সী এই নারীর। স্বামীকে মারা হয়েছিল ক্রস ফায়ারে। অপরাধ, শাসক দলের এক নেতার স্বার্থ রক্ষা করে চলতেন না তিনি।

বাবাকে হারিয়ে কিশোর ওয়াহাবের পরিবারটা চরম অসহায় হয়ে পড়ে। তার মা অনেক কষ্টে ছেলেমেয়েকে মানুষ করার চেষ্টা করেন। মেধাবী ওয়াহাব এসএসসির পর টিউশনি করে কলেজে পড়েছে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ঢাকা শহরে টিউশনি পাওয়া তার জন্য অনেক কঠিন। তাই বন্ধুদের কাছ থেকে ধার দেনা করে এবং বাড়ি থেকে আনা টাকায় একটা বাইক কিনে উবারে চালাতে থাকে। এক বছরে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েও দেনা শোধ হয়ে যায়। বরং মাসে মায়ের কাছেও কিছু পাঠাতে পেরেছে। নিজের ডিপার্টমেন্ট এবং একই সেমিস্টারের না হয়েও ওয়াহাবের সাথে আবিদার এই সম্পর্ক মূলত উবারের কারণেই। ওয়াহাবের উবারের প্রায় নিয়মিত যাত্রী ছিলো আবিদা। দিনে দিনে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। তারপর শুনেছে তার জীবনযুদ্ধের কথা।

বিনা কারণে বাবাকে হত্যার জন্য ক্ষোভ ছিল ওয়াহাবের মনে। শুধু হত্যা নয়, অপবাদ দিয়ে হত্যা। হত্যার পর গতানুগতিক ইয়াবা কারবারীর গল্প ফাঁদা হয়। এই গ্লানি সইতে অনেক কষ্ট হয়েছে কিশোর ওয়াহাবের। আর প্রতিদিন প্রতিক্ষণ মায়ের চোখের পানি ওয়াহাবের ভেতরে দ্রোহের দহন আরও বাড়িয়ে তুললেও তা প্রকাশের শক্তি ছিল না। ছেলেবেলা থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সে। বিশেষ করে বাবাকে হারানোর পর থেকে আল্লাহর কাছেই সকল কষ্ট যন্ত্রণা, অভাব-অভিযোগ জানিয়েছে পরম নির্ভরতায়। একটু শান্তি সে নামাজেই পেয়েছে।

মায়ের একমাত্র অবলম্বন এই ওয়াহাব। তার চোখের শান্তি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই ছেলেটা। এই ছেলেটা নিহত হওয়ার খবর কী করে তার মাকে জানাবে আবিদা। চিন্তায় চিন্তায় ঘেমে ওঠে সে। ওয়াহাবের পরিবারের সাথে এতটা সম্পর্ক অন্য বন্ধুদের হয়তো জানা নেই। কারণ আবিদার সাথে ওয়াহাবের ঘনিষ্ঠতা সবচেয়ে বেশি। তাদের বাড়িতে সে গিয়েছে একবার। তার মায়ের সাথে দেখা হয়েছে কয়েকবার। খুবই কোমল স্বভাবের নারী তিনি। সেটা আবিদা নিজের চোখে দেখেছে একবার। তখনো স্বামী হারানোর তাজা ক্ষত তার হৃদয়ে। সেসময়ের ঘটনা।

একদিন ওয়াহাব ও তার বন্ধুরা এশার নামাজ পড়ে হলের সামনের চত্বরে বসে গল্প করছিল। সে সময় বড়ভাই ও ছাত্রনেতাদের কয়েকজন তাদের ঘিরে ফেলে। ইসলামি একটা ছাত্র সংগঠনের গোপন বৈঠক চালাচ্ছে অপবাদ দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে তাদের। দুইজন দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ওয়াহাবসহ তিনজন আটকা পড়ে যায়। মেরে আধমরা করে পুলিশে সোপর্দ করে। বলে, ওরা স্বাধীনতাবিরোধী ছাত্র সংগঠনের কর্মী। গোপন বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। নিজের কাজ ফেলে ওদের মিটিং-মিছিলে না যাওয়ার পরিণতি যে এতটা ভয়াবহ হবে বুঝতে পারেনি ওয়াহাবরা। এরপর থেকে ওয়াহাবদের মনে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি শাসক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি।

বৈষম্য। কত রকমের বৈষম্য এই সমাজে চলছে। দুএকটা বৈষম্যেরও যদি প্রতিকার হয়! কিন্তু সরকার কি তাদের কথা শুনবে। অযৌক্তিক কোটা প্রথা চালু রেখেছে সবক্ষেত্রে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে নিয়ে চাকরি। সবক্ষেত্রেই প্রথমে দেখা হয় শাসক দলের লেজুড়বৃত্তি আছে কি-না। তারপর টাকা এবং প্রভাব। আর তা জায়েজ করার সবচেয়ে মোক্ষম উপায় হচ্ছে এই কোটা। সেই কোটার বিরুদ্ধেই প্রথম আওয়াজ তোলে ছাত্র সমাজ। আর এই আন্দোলন যেহেতু দলমত সবার তাই ওয়াহাবও যুক্ত হয় শুরু থেকেই। ক্রমেই আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা থেকে সারাদেশে। বাড়তে থাকে জুলুম-নির্যাতন। আর এক পর্যায়ে জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে ছাত্রদের সাথে সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণি-পেশার বঞ্চিত, নিপীড়িত জনতা।

পিটিয়ে পুলিশে দেয়ার পর খবর দেওয়া হয়েছিল ওয়াহাবের মাকে। পাগলের মতো ছুটে আসেন তিনি। সেই প্রথম দেখা মমতাময়ী দুঃখিনী এই মায়ের সাথে। কী যে এক অসহায় সকরুণ মুখচ্ছবি দেখেছিল আবিদা তা মনে হলে আজও অস্বস্তিবোধ হয় তার। আর সেই মায়ের সে সন্তান আজ বুলেটবিদ্ধ লাশ। এই খবর কী করে দেবে আবিদা তার মাকে।

এবার ওয়াহাবের মায়ের নয়, ফোনটা বেজে উঠেছে আবিদার নিজের। অজানা শঙ্কায় কেঁপে ওঠে অন্তরাত্মা। ইদানীং এমন হচ্ছে। ফোন বাজলেই বুকটা কেঁপে ওঠে। ভালো খবর খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। বাড়ি থেকে কল নয় তো! নাকি ওয়াহাবের মা? না, ফোন দিয়েছে নাফিজ। হ্যালো বলতেই নাফিজের কাঁপা কাঁপা কণ্ঠস্বর—‘আবিদা শোন! ফ্যাসিস্ট মনে হয় পালিয়ে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন বলছেন। মানুষজন সব গণভবনের দিকে যাচ্ছে। লাশ নিয়ে আমাদের হাসপাতালেই আসতে হবে। এই লাশ তাদের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। দাফন-কাফনের ব্যবস্থা তো করতে হবে।’

আবিদা এই প্রথম কান্না করল। বলল, ‘তার মায়ের ফোনটা আমি ধরতে পারছি না নাফিজ। তোরা আয়, কী বলবে, কী করবে এসে কর। আমার মাথায় কোনো কিছু কাজ করছে না রে!’

***

দুপুর গড়িয়ে গেছে। চারপাশের পরিবেশ কেমন বদলে যেতে লাগল। পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেখা যাচ্ছে না সড়কে। আবিদা, নাফিজ, শিশির, কনক, কায়সার, সেতু, ইতি ও শান্তসহ বন্ধুরা সব ওয়াহাবের লাশ ঘিরে বসে আছে। টেলিভিশনের খবরে লাইভ দেখাচ্ছে সেনাপ্রধানের ভাষণ। অল্প কয়েকটা কথা। লাইভের পর সেটাই বারবার রিপিট করছে চ্যানেলগুলো। আনন্দ আর বেদনার সংমিশ্রণে দ্বিতীয় স্বাধীনতার প্রথম প্রহর উদযাপন করছে বন্ধুরা। চারদিকে তখন আনন্দ উল্লাস।

এবার আর ফোন রেখে দেয়নি আবিদা। রিসিভ করে ওয়াহাবের মায়ের কল। যথাসম্ভব কান্না অবরুদ্ধকণ্ঠে বলল, ‘খালাম্মা! ওয়াহাব আজকেই বাড়িতে আসছে। সাথে আমরা বন্ধুরাও। ওয়াহাব কত বড় অর্জন করেছে সেটা আপনাকে জানাতে হবে যে। আমরা আসছি খালাম্মা। বলে ওপাশের প্রতিক্রিয়া না জেনেই লাইনটা কেটে দিল।

আবিদার চোখ থেকে তখন জল নয় যেন আগুন ঝরছে। প্রতিটি ফোঁটা যেন আগুনের জল।

Write a Comment

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *