উদাসী তশনা : ‘অসময়ে বন্ধু কেহ নাই’

আত্মন বিদ্ধি

জিসমে খাক আজ আফলাক শুদ/

কুহ দর রকস আমদ ও চালাক শুদ

—রুমি

প্রেমের অনলে জ্বালি যে প্রদীপ সে দীপেরও শিখা তুমি

জোনাকি পাখায় ঝিকিমিকি নেচে এ রীতি নাচালে তুমি

—মীরা দেব বর্মন

বৈদিক কবির ‘আত্মনংবিদ্বি’কে গ্রিক মনীষীরা বলেন—‘নো দাইসেলফ।’ নিজেকে জানো। জ্ঞানীরা বলেন—আত্মদর্শনই স্রষ্টা দর্শন। প্রখ্যাত সুফি ফরিদ উদ্দিন ক্তারের মানতিকুত তায়েরে আমরা দেখি—তিরিশটি হুদহুদ পাখি সাতটি বিপদসংকুল উপত্যকা পাড়ি দিয়ে যখন সী-মোরগ দেখতে পায়, তখন তারা বুঝতে পারে সী-মোরগ মূলত তাদেরই পরম রূপ। শেষ জীবনে এসে তশনার রহস্যময় হাসি, উদ্ভ্রান্ত চলাফেরা, জগতের প্রতি নির্মোহ আর মাঠঘাট ঘুরে বেড়ানো—এ যেন ইবরাহিম ইবনে আদহামের মতো পাওয়া অদৃশ্য ইশারা—‘দেয়ালের ভেতরে বসে খোদাকে পাওয়া যায় না সাধক! বের হও! এবার তবে পথে নেমে আসো।’ শেষ জীবনে এসে তশনার এমন ভিন্ন পথ নিয়ে কথা, লোককথা, গল্পকথা থাকলেও আমরা সহজে বুঝি—তিনি তার মালিকের সাথে আরও একান্ত হওয়ার, আরও কাছাকাছি যাওয়ার পথেই নেমেছেন। নইলে কমলারঙা রোদের পরে নির্মোহ সন্ধ্যার সেই আদি বিছানো মজমা বসবে কীভাবে? যেখানে কৃষ্ণকালো চেহারার এক মধ্যবয়সী যুবক গেয়ে উঠবে—

ছুটিল বসন্ত হাওয়া গোলাপ ফুটিল

ভ্রমর ব্যাকুল হইয়া উড়িল উড়িল।

গুলবদনীর দেখি রূপ ভুবন ও মোহন

রসিক হৃদয়ে অনল জ্বলিয়া উঠি।

পাঠে, াঠান্তরে

হারানো আলোকপুরুষ ইবরাহিম তশনার জন্ম ১৮৭২ সালে। তার পূর্বপুরুষরা এখানে এসেছিলেন মরু আরব থেকে। ৭০৩ খ্রিষ্টাব্দে কোনো এক মেঘলা দিনে হাতে সাদা তসবি-সহ জালালের পিছু হেঁটে এগিয়ে আসেন আরেক জোয়ান মর্দ। জালালের তিনশো ষাটের একজন। নাম—তাকি উদ্দিন। এর পরের কাহিনি আমরা তেমন জানতে পারি না। শুধু জানি তার কবরগাহ সম্পর্কে। জালালপুরে তার কবর। আর তশনার গানেও যখন জালালপুরের কথা পাই আমরা বুঝে উঠি, তিনি বলে যাচ্ছেন—‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি! আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।’ এছাড়া আরও একটুখানি জানা যায় এভাবে—পিতা তাকি উদ্দিনের পদচিহ্ন ধরে দরবেশ জামাল উদ্দিন আসামের কাছাড় অঞ্চলের দিকে রওনা হোন। দরবেশের হাত ধরে সামনে এসে দাঁড়ালেন এক সাধারণ হিন্দু ব্যক্তি। জানালেন—‘হুজুর, জিনের উৎপাত ও যন্ত্রণায় আমি ও আমার গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য এখানে বসবাস অসম্ভব হয়ে গেছে। আমাদের ওপর একটু দয়া করুন।’ দরবেশ তো বেরই হয়েছেন এই দয়ার উদ্দেশ্যে। নিজের পবিত্র হাতে মানুষের শক্ত কাঁধ মুছে দিতে। তার হাতে ধরা আছে পিপাসার পরিমিত জল। জিনের সমস্যাটি সমাধান করে দিলেন বটে! তারা তাকে চেপে ধরলো সেখানে থেকে যাওয়ার জন্য। থেকে গেলেন তিনি। এই জিনসম্পর্কিত গ্রামের নাম নাম বাইছটি। তৎকালীন আসাম; এখনের সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা। এর অনেকদিন পরে এখানে এই দরবেশের পবিত্র ঔরস থেকে জন্ম নেবেন ইবরাহিম। ইবরাহিম তশনা। পরবর্তীতে যিনি হবেন উদাসী তশনা।

শ্যাম বর্ণের, মধ্যম দেহের, কালো কুচকুচে পুতলিঅলা চোখের সাদা পাগড়িঅলা এই লোকের নাম ইবরাহিম আলি। পূর্ণ বয়সে এসে যিনি চশমা পরেন। জামা পায়জামার সাথে গায়ে জড়াতেন শাহি পোশাক—আরবি আভা। চা খেতেন খুব। 

পিতা আব্দুর রহমানের কাছেই শিক্ষার হাতেখড়ি। এরপর প্রাথমিক শিক্ষা হাসিল করেন উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুলবাড়ী আজিরিয়া মাদরাসা (১৮৬০) থেকে। মাদরাসার প্রচলিত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি উর্দু ও ফার্সি ভাষার  প্রাথমিক জ্ঞান হাসেল করেন এখানেই। নিয়মমাফিক এখানেও যখন পড়াশোনা শেষ হয়, ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে পাড়ি জমান ভারতের দেওবন্দে। 

অন্য তশনা

‘আমি দীর্ঘ নয় বছর বিদেশে থেকে আপনাদের জন্য সামান্য খেজুর নিয়ে এসেছি। আমার ইচ্ছা আজকের সভায় খেজুরগুলো বণ্টন করে দিই।’ জনতার অনেকেই খেজুরের আশায় এদিক-ওদিক তাকালো! তিনি তখন বললেন—‘এ খেজুর ইলমে দ্বীনের খেজুর। আজ আমি এ মাটিতে ইলমে দ্বীনের একটি বীজ রোপণ করতে চাই, ইলমে দ্বীনের এ বীজের বদৌলতে ইসলামের আলো চিরদিন জ্বলতে থাকবে।’ এমনই এক সাধারণ প্রস্তাবনার মাধ্যমে বালাকোট, সিপাহী বিদ্রোহ আর আজাদি আন্দোলনের পাথেয় হিসেবে  ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দে নিজ গ্রামে এসে মাদরাসায়ে ইমদাদুল উলুম প্রতিষ্ঠা করেন। তবুও জ্ঞানের তৃষ্ণা মেটে না তার। মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মোটামুটি বছর পাঁচেক পর ১৯০৩ সালে আবার দিল্লির দিকে রওনা করেন। আরও দুই বছর নজির হাসান দেওবন্দির সান্নিধ্যে থেকে হাদিস শাস্ত্রের পান্ডিত্য অর্জন করেন। আর এই সময়টাতেই জানু পেতে বসে তাসাউফের সবক নেন মাওলানা আশরাফ আলি থানবীর কাছ থেকে। যার দলিল আমরা তশনার কাব্যে দেখতে পাই—

হাকিমুল উম্মতের দয়া হইলে হবে পূর্ণ আশা

আর যদি করেন দয়া মৌলানা ইমদাদুল্লায়।।

উদাসী তশনার নৌকা অবিলম্বে হইবে পার

দয়া হইলে হাকিমুল উম্মত হজরত মাওলানার।।

ভারতের এই দ্বিতীয় সফরেই তিনি হয়ে উঠেন ‘তশনা’ ওস্তাদ নজির হাসান দেওবন্দি শাগরেদের জ্ঞানের অপার তৃষ্ণা দেখে তাকে উপাধি দেন ‘তশনা’।  তৃষ্ণাতুর। যার জ্ঞানের তৃষ্ণা কখনোই মিটতে চায় না আর।

দুই.

১৯২০ থেকে ২৩ সাল। তুরস্কের আকাশে তখন মেঘের ঘনঘটা। সেসময় তুরস্কের পক্ষে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ‘দলে দলে ইংরেজি শিক্ষা বর্জন’ ও ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্জন’ আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেলে যান ইবরাহিম তশনা। 

তিন.

‘তখনকার শিক্ষা, রাজনীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতিতে তশনা ছিলেন প্রখর চেতনা, দূরদর্শী ও আধুনিক চিন্তাধারায় উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। তাঁর আধুনিক মন মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় কাজ ও কথায়। সেই সময়ে ইংরেজি শিক্ষার প্রতি মুসলমানদের অনীহা ছিল। আলেমদের অনেকে মনে করতেন, ইংরেজি শিখলে বা পড়লে মুসলমানেরা সাংস্কৃতিক দিক থেকেও ইংরেজদের বশীভূত অনুগত হয়ে পড়বে। এই মতামত একেবারে অন্তঃসারশূন্য বলা যাবে না। তবু ইতিহাস পর্যালোচনায় বলা যায় প্রথমদিকে ইংরেজি চর্চা থেকে বিরত থাকায় মুসলিম সমাজ লাভবান হয়নি। সেই সময়ে ঐতিহাসিক লক্ষ্ণৌ সম্মেলনে সাহসী তশনা বলেছিলেন—‘ইংরেজি একটি ভাষা। ইংরেজের সাথে আমাদের আদর্শিক ভিন্নতা আছে বলেই ইংরেজি শেখা অপরাধ নয়। তাদের আচরণ অনুসরণ করা অপরাধ।’

‘ইসাঈ পাদৃগণ সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত রসুল আলায়হেস্ সালামের ও পবিত্র কোরান মুজিদের প্রতি যে সকল অযথা আক্রমণ ও দোষারোপ করিয়াছেন, হিন্দুস্থানী মল্লেম ওলামা মণ্ডলী তাহার সহস্র সহস্র প্রতিবাদ পুস্তক, উর্দু ও পার্সী ভাষায় লিখিয়া, আক্রমণকারী দিগের বিষদত্ত ভগ্ন করিয়া দিয়াছেন। আমাদের বঙ্গদেশে কোনও প্রকার মুসলমান ধর্মত্তেজিকা সভা-সমিতি নাই। ধর্মের সম্যক আলোচনা নাই উপযুক্ত প্রচারকও নাই। যদিও মাদ্রাসা পাস করা মৌলভী সাহেবগণ দেশে দেশে ভ্রমণ করিয়া ও মুরিদ করিয়া ফেরেন, কিন্তু তাঁহাদের সেই চিরন্তন বাঁধা গৎ প্রচার ও ‘তেলে মাথায় তেল দেওয়া’ ভিন্ন বিপক্ষের আক্রমণ রোধ করিবার ক্ষমতা নাই।’

মুনশি মেহেরুল্লা তার ‘রদ্দে খ্রীষ্টিয়ান ও দলিলোল এসলাম’ বইয়ের টিকায় উল্লেখ করেন—‘বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর এবং টাঙ্গাইল ইত্যাদি কয়েক স্থলে যদিও কয়েকটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সভা আছে, কিন্তু সেই সমস্ত সভার প্রতি সাধারণের তাদৃশ সহানুভূতি নাই।’ মুসলমানদের এই দীনতা ও কমতির ঘাটতি পূরণে মুনশি মেহেরুল্লাহ যশোর, রংপুর অঞ্চলে মুসলমান সাধারণ নিয়ে সমাজ সমাবেশ ও মাহফিলের আয়োজনে মনোযোগ দেন। কাছাকাছি সময়ে ১৯০৬ সালে ইবরাহিম তশনা কুরআন হাদিস ও ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য নিয়েই মাঠে ময়দানে ইসলামী জলসার প্রবর্তন করেন। এটা ছিল তশনার জীবনের অন্যতম সংস্কারমূলক কাজ। সেকালে এর মাধ্যমে ইসলামকে ধর্ম হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া সহজ ও সম্ভব হয়। যেই রশি ধরে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষেরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে নিজের করে নিজে পেরেছিল। উদ্বুদ্ধ হয়েছিল মাটি ও মাতৃভূমি রক্ষার প্রতি। 

তশনার কাব্য : প্রেম  দরদি পূর্ণিমা

সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর

আমার মাঝে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর।

—রবীন্দ্রনাথ

‘বৈষ্ণব ও ইসলামের সুফিদের প্রভাবে সিলেটে একদা বাউল, ভাটিয়ালি, মারফতি গান রচনার একটি ধরা বিশেষ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।’ (শ্রীহট্টের লোক সংগীত)

এই ধারাবাহিকতায় তশনার জীবনের অমর রচনা হলো ‘নূরের ঝংকার’ ও ‘অগ্নিকুণ্ড’ প্রচলিত পরিভাষায় এগুলোকে বাউলগীতি বা বাউলসংগীত বলা হলেও তশনা-সহ সিলেটের শিতালং শাহ, হাসান রাজার কাব্যকে ধরা হয় ইসলামি সুফি ধারার কবিতা। এগুলোর ভাষা ভিন্ন। আবেদন আত্মিক। খোদাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় পূর্ণ এইসব কাব্য যেন খোদা দর্শনের আয়না। এমন কাব্যের মূল তথ্য হচ্ছে খোদাপ্রেম; ঈশ্বরভক্তি। এই দর্শন থেকেই আল মাহমুদ বলেন—‘তশনার অগ্নিকুণ্ড যেন রুমির মসনবী শরীফ। তার কাব্যেও ঘুরেফিরে রুমি, আত্তার আর খৈয়ামরা চলে আসেন।’

মজ্জুপ হালতেও তিনি ছিলেন শরীয়তের পাবন্দ। বরং এটা হওয়াই ছিল মৌলিক। এই অঞ্চলের মানুষের জন্য তার পূর্বপুরুষের দীর্ঘ কুরবানি তো আছেই। সাথে আপন পিতা আব্দুর রহমান কাদরীও ছিলেন ‘কাদরী তরিকা’র উঁচু মাপের পীর। এই সিলসিলা ধরেই তশনার কাব্যে আমরা দেখি—খোদার একত্ববাদের সবক শুনাতে গিয়ে তিনি বলেন সুরা ইখলাসের হকিকত—

হু-আল্লাহু আহাদ প্রভু একা নিরঞ্জন

মা ও বাপ বেটা বেটি নাহি সে একেলা গো।।

দিনভর রুটিরোজকার কামানোর পরে তার সন্ধ্যার মজলিসে বসে এক দিনমজুর শুনে যাচ্ছেন—

কেবল লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ শুনি

বারে বারে ডাকি আমি এই ভরসায় গো।

কত আশা করি আমি গিয়া তোমার দ্বারে

লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ শুনিয়াছি বসি গো॥

তার চোখের কোন হয়ে বেয়ে যাচ্ছে মৃদু চালের অশ্রুধারা। তিনি জানেন না—এটা তশনার কথা না। খোদ স্রষ্টার কথা এক দিনমজুরের কানিয়ে ঢেলে দিচ্ছেন তশনা।

কর্মভারে কাঁধ বেঁকে যাওয়া, মাথা নুয়ে আসা গ্রামীণ লোকেরা যখন কুরআনের বাণী—আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন, আর যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন; আপনার হাতের মধ্যে সমস্ত কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।—তশনার কাব্যে শুনেন—

চাহিলে ইজ্জত দাও, চাহিলে জিল্লত দাও

ইজ্জত ও জিল্লতের প্রভু এখতিয়ার তোমার॥

আশা ও প্রাপ্তিতে তাদের হলুদাভ চোখগুলো ঝলমল করে ওঠে। হৃদয়ে দোল খায় দূরের অচেনা বিলে থেকে উড়ে আসা কোমল বাতাস।

আমার তশনা সফর শুরু হয় তশনার ‘অসময়ে বন্ধু কেহ নাই’ গানের ভিতর দিয়ে। এক রাতে ঘুমানোর আগে গানটা প্লে করলাম, পার্থিব জীবনকে ছাপিয়ে আমার মনে হলো—তশনা যেন আমাকে শুনাচ্ছেন নাগরী হরফে কিংবা বাংলা অক্ষরে—ইয়াওমা ইয়াফিররুল মারউ মিন আখিহি—(কেয়ামত কায়েম হলে) সেদিন মানুষ তার ভাই থেকেও পালাবে। এবং নিজ পিতা-মাতা থেকেও। এবং নিজ স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি থেকেও। (কেননা) সে দিন তাদের প্রত্যেকের এমন দুশ্চিন্তা দেখা দেবে, যা তাকে অন্যের থেকে ব্যস্ত করে রাখবে।

কুরআনের একাধিক স্থানে বর্ণিত জন্ম ও মৃত্যু বিষয়ক আলোচনাকে—

“আপনি মৃত থেকে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটান, আবার জীবন্ত আবির্ভাব ঘটান।”

“আল্লাহই, তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমাদের রিজিক দিয়েছেন, তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন এবং তারপর তোমাদের জীবিত করবেন।”

“তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন।”

তশনা নিয়ে আসেন নিজস্ব দর্শনে, গায়ে কাদা লেগে থাকা সেই কৃষকের মতো করে। বলেন—

মুর্দা হইতে জিন্দা আর জিন্দা হইতে মুর্দা

সকলি করিতে পার কুদরতে তোমার।।

Man can not live by bread alone. 

—বাইবেল

মানুষ পেটসর্বস্ব জীব নয়। তাঁর আত্মা আছে, আছে আত্মিক, আধ্যাত্মিক চাহিদা। তাই কট্টর বস্তুবাদী লোকও এসব গানে আলোড়িত হয়। তশনার ‘নূরের ঝংকার’ ও ‘অগ্নিকুণ্ড’ কাব্য মিলিয়ে তশনার গানে এসে মিলিত হয়েছে স্রষ্টা সন্ধান, খুদিতত্ত্ব, নবিপ্রেম, গুরুভক্তি। কুরআনের আয়াতের মর্মকে কেন্দ্র করে লেখা তশনার কবিতা এক জায়গায় করলে মাঝারি সাইজের একটা পাণ্ডুলিপি বের করা যাবে অনায়াসে। নবিজিকে নিয়ে তার স্তুতিকাব্যের সংখ্যা পঁচিশের অধিক। তার কাব্যের ভিতরে দিয়ে শান্ত জলের মতো বয়ে গেছেন পারস্যের আত্তার, দূরের রুমি, থানভিসহ আরও মহান সুফি সাধকেরা। এমন বিস্তৃত বুননের সন্ধান পাওয়ার পরে তশনা কাব্য নিয়ে আল মাহমুদের বলা মন্তব্য—‘তশনার অগ্নিকুণ্ড যেন রুমির মসনবী শরীফ।’—আমার আর অতিশয়োক্তি মনে হয় না।

পরিপাঠ

  • মরমী কবি ইব্রাহিম তশনা জীবন ও গান; মোহাম্মদ মোশতাক চৌধুরী
  • ইবরাহিম আলি তশনা ও অগ্নিকুণ্ড; সরওয়ার ফারুকী সম্পাদিত
  • সিলেটের একশত একজন; ফজলুর রহমান
  • সিলহেট মে উর্দু; আব্দুল জলীল বিসমিল
  • মেহেরউল্লাহ রচনাবলী-১
Write a Comment

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *