শোকপাখির শেষকৃত্য

সোনারঙ ধানের শরীর, বিধ্বংসী জলের নাচন;
নিরানন্দ খানাখন্দ, ফেরানো গেল না বোধ।
বেদনার আলপথে বহুকাল জমে আছে—
অসমাপ্ত সংলাপ!
বৈরী মাটির ক্রন্দসী চাদরে অনন্ত ঘুমের ছবি আঁকে-
বিলাপ-জাগানিয়া শেফালি-কানন;
মাটি-মানুষের বিপরীতে মাটি,
কাঠগড়ায় দাঁড়ায় এ কেমন রাজসাক্ষী!

‘ভোর হলো’ বলে প্রতিনিয়ত নিভে যায় যে সোনার প্রদীপ,
ফেরার পথ হারিয়ে সে আলো- নিজেরই সলতে পোড়ায়,
আলগোছে ত্যাজ্য করে নিজের পেলব শরীর!
নির্বোধ জেদের কাছে দাঁড়িয়ে আর কোনো সকাল
এলোমেলো ফুলের ঘ্রাণে ভোলে না।
অচেনা আরাধ্য হৃদয় তারে ভালোবাসে গোপনে,
তবু তার ফেরারি মন আকুলি-বিকুলি তড়পায়!
সড়কে পা রাখলেই নিদারুণ মড়কের শব্দ ওঠে,
বিষণ্নতার ঘ্রাণে ঘুম যায় স্বপ্নের তারাবাতি।

ঊষার অন্দরে নিবিড় তুষারপাত, দুয়ারে কাঁকন বাজে;
বধিরতার ভান করে শোকপাখিটি গুটিয়ে রাখে ডানা।
উড়াল মুছে দিয়ে আরও কিছু প্রহর শুনে যায় কড়ানাড়া,
সে জানে তার শেষকৃত্যের দিনে—
লোভাতুর চোখেরা খুব এক্কাদোক্কা খেলবে অবিরাম।
এইটুকু ভেবে কতিপয় দুঃখছানার ডানার শব্দ শুনবে বলে
বেদনার কুলঙ্গি সাজায় নিজস্ব আকাশে আকাশে!

মুগ্ধতা নষ্ট হয়ে যাবে বলে—
বিষাদিয়া হৃদয় বহুদিন যায় না স্মৃতির কাছে,
তবু অবচেতনের কোনো অসতর্ক মুহূর্তে
খুলে যায় সেই গোপন দরোজা।
একটি পুরনো হারিকেনের চিমনি মোছার সন্ধ্যা-
ধীরে এগিয়ে আসে,
বিরহ-জাগানিয়া বাঁশি কোথাও দূরে কেঁদে ওঠে;
ভাঁটঝাড়ে জ্বলে ওঠে জোনাকি-বাগান
এমনতরো আলো আলো প্রহর তারে আর ডাকে না,
তারা শুধু সাক্ষী—তাহার ভেতরের নীরব পতনের।

Write a Comment

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *