কাকের বৃত্তে
সাবান নিয়ে উড়ে যাচ্ছে কালো কাক
খড়ের চালে গুঁজে দিয়েছে। কী ভরসা!
নাগরিকের মতো; বাপেরা তো অবাক
নেমেছে কাক-চোখে রাজকীয় তমসা।
ফেরার পথে ঘোর আঁধার জমে থাকে
আলোর বাঁকে লাগে—আতঙ্কে শিকল
‘আসল’ করে ভাবে আগাম অজানাকে
জীবন কারো দেখি পাতানো অবিকল।
এখানে কাক আসে ছোঁ মেরে চায় সব
ফেরাতে এলে বোধ ঈগল আসে পিছে
গুলতিগুলো জানে কেনো তারা নীরব
জানতে গিয়ে ওরা দমেছে কতো নীচে!
কাকেরা বেহিসাব; শিকারী জানে ভোগ
জেনেছি কবিরাজ—হয়েছে নিজে রোগ।
আম্মার আঁচল
ছোট বেলায় একদিন আমি একটা স্বপ্নের
ভেতর ডুবে গিয়েছিলাম। এরপর থেকেই
অনেকগুলো স্বপ্ন আমার হাত, মুখ ও বুক
থেকে চোখের পথ ধরে; খুব গোপনে বোধ
ও মগজের ভেতরের কোষ তক চলে যায়।
আমার স্বপ্নের ডায়াস জুড়ে অনেকগুলো
নীল কবুতর পাখনা ঝাঁপটে গান গাইছিল।
হঠাৎ করেই আম্মার আঁচল পেতেই সবাই
সেই আঁচলেই লুকিয়ে গেল। ঘুম শেষ হলে
আম্মার আঁচল ধরতেই বলেন, কী ব্যাপার!
আমি চুপচাপ স্বপ্নের কথাই বললাম তাঁকে
আম্মা বললেন, নীল কবুতর আঁচলের গিঁট
চেনে না; সে তোর জানা নেই! আসলে সব
মায়ের আঁচল মৌলিকভাবে ছেলেদের ঘর।
সেখানে তাঁর সব দোয়া—নীল কবুতর হয়।
আম্মার আঁচল সত্যি আমার স্বপ্নের ডায়াস…
রাতের স্মৃতি-চিঠি
একটা মোমবাতি জ্বলছে একা একা
ঝিঁঝিঁরা জানাচ্ছে তাদের বেঁচে থাকা
ব্যাঙেরা মেঘ চায় নিজের সুরে সুরে।
এখানে জোনাকিরা জমেছে আনন্দে
জানালা খোলা বলে চোখের মায়াবন
কানের অভিমুখে লিখছে স্মৃতি-চিঠি।
দূরের অতীতের—কতো না রাত এসে
গড়ছে সাঁকো আজ এই রাতের সাথে।
শরীর ঘামে ভেজা; বাতাস অভিমানে
বিজলি গেছে বনে বাঘের অভিসারে
এমন রাত পেয়ে কবিতা খেলে দিলো
অচেনা দাবা-চাল। বিপুল অভিযোগে
বাড়ালো আবছায়া আনোখা এ রজনী।
আমরা কালো কালো রাতের একান্ত
কোমল গভীরতা না বোঝে পান করি
ভোরের কামনায়—নিদ্রা লিখে লিখে।
রাতেরা! আসো জল সহগে মাটিবনে
রোদের ছায়া ভুলে প্রেমের ঝিঁঝিঁ হয়ে।
বাকা
কেনো এতোসব আয়োজন করে মাটির নিকটে
রেখেছো প্রাণের ছায়া মহাজন! কেনো সাক্ষাত
করোনি এতোটা আদরের পরে আমাদের সাথে
নিজেকে নিরেট তোমার হিসেব বানানোর পরে।
মায়া হারানোর যতো মরিচিকা চোখের কিনারে
ফিরে ফিরে এলে আমি খুব খুঁজে ফিরি একান্ত
পথের মালিক। লিখে রাখা হয় ভেবে দিনগুলো
অনায়াসে যেতে থাকে অজানায় মেঘের সহগে।
ফিলোসোফি আর সূফী অনুভবে- আমিহীন হই
মনে মনে খুঁজি আহা! এতোসবে তুমি তবে কই
আমার কেবল মিশে যেতে হবে তোমার চাহাতে
স্মৃতি কিবা দাগ কিছুই না রেখে আজ এইখানে।
তুমি ছিলে বলে ভেবেছি নিত্য আমায় কে আর
নিরস পথিক করে দেবে ডেকে। অথচ আমাকে
কালের ছলেরা উড়ে উড়ে এসে নিয়েছে বিপথে
নিরেট বে-বল আমাকে রাখোনি নিরাপদে তুমি।
আমি চাই তুমি ডাকো আমাকেই তোমার মহলে
কখনোই যেনো মানুষের বোধে না ফিরি জগতে।
ধনুর মাঝি
হিজল ও ছাতিমের গন্ধমাখা মাটির আশ্রয়ে
দীর্ঘ সফরের পরে স্বনামে হয়েছি বাংলাদেশ
সময়ের পথে পথে সাহসের বীর-গাঁথা লেখে
এই মাটি মানুষেরা বিজয় করেছে সংবিধান।
জল-স্রোত সমারোহে ধনুর কবলে একা পথে
মাঝি সুখি হবে বলে ধরে দেয় পুরোটা যৌবন
সে পথেই ফিরে পাই নতুন সুখের যতো ভোর
অতীতের স্মৃতি হয় বিলের অবাধ্য ঢেউগুলো।
বাংলাদেশ পৃথিবীর পথে নয়া কবিতার ভাঁজে
উপমার চেয়ে বেশি রেখে দেয় জাদু বাস্তবতা
মানুষেরা পাতাদের ইতিহাস থেকে শিখে যায়
ঝরাপাতা ফিরবে না পেছনের বোঁটাঘরে ফের।
কবি লিখে প্রতিদিন পেছনে ফেরার নেই পথ
পরম্পরা লড়াইয়ের; মাটি তাই জন্ম দেয় বীর
কোমলতা নদীময় মিশে রয় জলজ আবেগে
ঘোর অনুভবে যাই পিশাচ খেদানো মজমাতে।
পাথরেও কোমলতা এই দেশ জানে অনুরাগে
মাটি-মানুষেরা জাগে হৃদয়ের কাছে প্রেমময়।