আলি তানতাবি। নামটি চোখে পড়লে স্মৃতিতে ভেসে ওঠে একজন দরদি সাহিত্যিকের চিত্র। যিনি দীর্ঘ জীবনের উন্মুক্ত পাঠশালা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে ছুটে চলেছেন। সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। আলো-আঁধারির পার্থক্য বুঝিয়েছেন ক্লান্তহীন ভাবে। কারও দৃষ্টিতে আবার আশির দশকের টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠা একটি প্রিয় মুখ। যার ‘নূর ওয়া হিদায়াহ’ দেখার জন্য প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে খুব আয়োজন করে বসত।
আবার কারও কাছে ষাটের দশকের বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসা পরিচিত কণ্ঠস্বর। যার দৃঢ় বচন সবাইকে জাগিয়ে তুলত। যার কোমল উচ্চারণ কাছে টেনে নিত। কান পাতলেই সে ধ্বনি শোনা যেত দিমাশকের অজপাড়া গাঁয়ের কোনো এক বারান্দা ঘর থেকে। অথবা জেদ্দার ব্যস্ত কোনো ‘মাতআম’ থেকে ভেসে আসত মমতাময় বৃদ্ধের স্পষ্ট উচ্চারণ।
কারও কাছে আলি তানতাবি নামটি সিরীয়ার আদালতের স্বনামধন্য এক প্রভাবশালী বিচারপতির হাস্যোজ্জ্বল মুখ। কেউ আলি তানতাবি নামটি দেখেন একজন ইউনিভার্সিটির সফল প্রভাষকের চরিত্রে। আলি তানতাবির অনেক পরিচয় থাকলেও আজ আমরা পরিচিত হবো গদ্য সাহিত্যিক আলি তানতাবির সাথে ।
আলি তানতাবি মাত্র ১৭ বছর বয়স থেকে গদ্য সাহিত্যিক হিসেবে তার লেখকজীবন শুরু করেন। মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া এক কিশোরের লেখা প্রথম প্রকাশিত হয় মিশরের বিখ্যাত পত্রিকা আল-আহরামে। আল-আহরামে লেখা প্রকাশ পাওয়া চাট্টিখানি কথা না। বড় বড় বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচকদের হাট বসতো আল-আহরাম পত্রিকার পাতায়। ১৯২৬ সালে চালু হওয়া আলি তানতাবির কলম আল্লাহ তাআলা অব্যাহত রেখেছিলেন সুদীর্ঘ ৭৩ বছর।
আলি তানতাবি উসমানি খেলাফতের পড়ন্ত বিকেলে সিরীয়ার দিমাশকে ১৯০৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও তার পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল মিশরের তানতা অঞ্চলে। তাই তার লেখায় সিরীয়া ও মিশরের সাহিত্যধারার একটি চমৎকার মিশেল পাওয়া যায়। তিনি তার এই মিশেলের মাধ্যমে আরবি সাহিত্যে একটি বৈচিত্র্যময় ধারা তৈরি করেছেন। তার লেখার মধ্যে কিছুটা প্রাচীন আরবি সাহিত্যের চমৎকার ভাব রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, সিরীয় ও মিশরি সাহিত্য ভাবধারার সমন্বয়ে ক্লাসিক্যাল প্রাচীন আরবি সাহিত্যের ধাঁচ বজায় রাখা, আধুনিক আরবি সাহিত্যিক হলেন আলি তানতাবি।
গদ্য সাহিত্যে আলি তানতাবি একাধারে প্রবন্ধ, কলাম ও সাংবাদিকতা, গল্প ও সাহিত্য, বক্তৃতা-আলোচনা, জীবনী ও স্মৃতিচারণ বিষয়ে লিখেছেন। তার প্রতিটি বিভাগের সাহিত্যকর্ম পাঠক ও সমালোচকদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এবং তিনি এই প্রতিটি বিভাগেই ব্যাপক সুনামের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
আলি তানতাবি সাধারণত তার লেখায় আকর্ষণীয় ও সহজ শব্দ ব্যবহার করতেন। সহজ শব্দ ও সহজ ভাষা তার লেখাকে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিত। তার লেখায় কৃত্রিমতা থাকত না। যার ফলে সকল শ্রেণীর পাঠক তার লেখা পড়তে বেশ স্বাচ্ছন্দ অনুভব করত।
তিনি তার লেখায় প্রচুর উদাহরণ দিতেন। বাস্তব জীবনের উদাহরণ। হয়তো তার জীবনের কোনো গল্প, অথবা তার দেখা কোনো ঘটনা। যা পড়ে পাঠক ভাবতেন, ঘটনাটি হয়তো তার আশেপাশেই কোথাও ঘটেছে। ফলে পাঠক তার জীবনের মধ্যে খুব দ্রুতই আলি তানতাবির লেখার মিল খুঁজে পেতেন।
তিনি তার লেখার মধ্যে খুব যত্নের সাথে উদ্ধৃতি পেশ করতেন করতেন। কুরআন-হাদিস বা সাহাবা-তাবেয়িদের বচন। পাশাপাশি প্রাচীন কবি-সাহিত্যিকদের কোন কবিতা বা লেখার উদ্ধৃতিও তিনি তার লেখার মাঝে নিয়ে আসতেন। তিনি এমন ভাবে উদ্ধৃতিগুলো উপস্থাপন করতেন, পাঠক পড়ার মধ্যে খেই হারাত না বা অপ্রয়োজনীয়-অপ্রাসঙ্গিক মনে করত না।
তার গদ্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, রসিকতা। তবে তা ব্যবহার হতো লেখার মূল ভাব ও শালীনতা বজায় রেখেই। পরিমিত মাত্রায় অত্যন্ত মার্জিত ও বুদ্ধিদীপ্ত ভাবে। যার ফলে তার লেখার মূল চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ বিনষ্ট হতো না, বরং তা পাঠককে বিষয়ের প্রতি আরো আগ্রহী ও কাছে নিয়ে আসত।
তার সাহিত্যকর্মের একটি বিশেষ দিক ছিল ‘প্রসঙ্গ বদল’। অর্থাৎ একটি মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মূল আলোচনা বাদ দিয়ে অন্য বিষয়ে কথা শুরু করা। এর উদাহরণ তার বইগুলোতে প্রচুর রয়েছে। তবে আলি তানতাবি প্রসঙ্গ বদল শিল্পে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। পাঠকের কখনো মনে হয়নি, এটা মূল বিষয়ের বাইরের কোন আলোচনা, কিংবা এখানে বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক। এ বিষয়ে আলি তানতাবি নিজেই তার আত্মজীবনী ‘যিকরায়াতে’ উল্লেখ করেছেন।
তার লেখনীতে প্রায় সময় দুইটি ভিন্ন বিষয়ে অপূর্ব ভঙ্গিতে সংযোগ স্থাপন ও প্রাচীন কোন বিষয়কে আধুনিক শব্দে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন, তিনি যিকরায়াতে আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক সম্পর্কে লিখেছেন—‘তিনি ছিলেন একজন মিলিয়নিয়ার দরবেশ। একজন ফকিহ, যোদ্ধা ও ধর্মপ্রাণ মুসলিম।’
তিনি একজন যুক্তি নির্ভর বিশ্লেষণ ছিলেন, যা কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে বিরল। সাধারণত প্রায়ই কবি সাহিত্যিকদের কথায় শক্তিশালী কোনো যুক্তি থাকে না বা তাদের কথা খুব বেশি মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনও পড়ে না কিন্তু আলি তানতাবি যুগ যুগ ধরে জীবনের পরীক্ষা ও উত্থানপতন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে উপদেশ দিতেন পাশাপাশি এর কারণ ও পরিত্রানের বিষয়ে সাবলীল ভাবে বিশ্লেষণ করতেন এবং যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা করতেন, যা পাঠক খুব সহজেই লেখকের কথাকে নিজের চিন্তা হিসেবে গ্রহণ করতেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাদের ভাষায়, তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীদেরকে তাদের মতো করে যুক্তি দিয়ে প্রবন্ধ ও রচনা লিখেছেন, যা পাঠক মহলে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও সমাদৃত।
এগুলো ছাড়াও তার লেখায় আরও বিশেষ কিছু পদ্ধতি পাওয়া যায়, যা সাধারণত অন্য লেখকদের সাহিত্যকর্মে দেখা যায় না। তিনি তার প্রতিটি বক্তব্য যুক্তি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশদ আলোচনার পর একটি বাক্য সংকোচন যোগ করে থাকেন। আবার কখনো একটি ছোট্ট কথার সূত্র ধরে বিস্তারিত আলোচনাও করেন, যা উৎসুক পাঠকদের বেশ আনন্দিত করে।
সাহিত্যিকদের উচ্চতা মাপার জন্য একটি রেওয়াজ সাহিত্য মহলে বেশ পরিচিত ও প্রচলিত। লেখকের দক্ষতা মাপার জন্য তার বাক্যশৈলীতে নজর দেওয়া হয়। যদি লেখকের লেখা প্রথম দৃষ্টিতে পড়া গেলেও অনুধাবন করা অসম্ভব হয়, লেখাটিতে গভীরভাবে চিন্তা করার পর তার অর্থ ও প্রকৃত তাৎপর্য ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে থাকে। তাহলে তাকে গুণী লেখক হিসেবে কদর করা হয়।
আলি তানতাবিও মাঝেমধ্যে সহজ শব্দে কিছু বিষয়ে এমনভাবে প্রকাশ করতেন, পাঠক যার সাধারন অর্থ বুঝলেও মর্মোদ্ধারে বেশ বেগ পেত। তবে কিছুটা চিন্তা করলে শব্দের কালো মেঘে লুকিয়ে থাকা মর্ম সূর্যের মতো উদ্ভাসিত হতো। তানতাবি ও মানফালুতির পাঠকগণ এই বিষয়ে বেশ ওয়াকিবহাল রয়েছেন।
তবে আলি তানতাবি কখনো কখনো নিজের সাথে যুক্ত কোনো বিষয়ে খানিকটা অতিরঞ্জনও করেছেন বটে। তবে এ বিষয়ে তিনি নিজের নামে সাফাই গেয়ে লিখেছেন—‘গল্পকারেরা নিজেদের চরিত্রকে বড় করে ফুটিয়ে তুলে, আর অন্যের অবদানকে সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করে।’
লেখক হিসেবে আলি তানতাবি সবসময় সঠিক বলতেন বিষয়টি এমনও নয়। তার বিভিন্ন লেখা নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়েছে। তবে তার একটি মহৎ গুণ ছিল, তিনি ভুল বুঝতে পারলে অবিলম্বে তা স্বীকার করতেন। ইনিয়ে বিনিয়ে তার কথাকে সঠিক প্রমাণিত করতেন না।
তিনি কঠোরভাবে স্পষ্ট ভাষায় কবি সাহিত্যিকদের ভুলগুলো যুক্তির মাধ্যমে সমালোচনা করতেন। তবে তা হতো গঠনমূলক, নৈতিক ও আদর্শভিত্তিক এবং সমাজকে ভালো পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে। কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করার জন্য তার সমালোচনা হত না। যার কিছুটা নমুনা তার বিখ্যাত বই ‘সুওয়ার ওয়া খাওয়াতির’ বইয়ে উল্লেখ রয়েছে।
আলি তানতাবির সাহিত্যে শুধুমাত্র বিনোদন, অন্ধভাবে পাশ্চাত্য সাংস্কৃতির অনুসরণ ছিল না। বরং সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি সমাজ ও মানুষের উন্নতির কথা ভাবতেন। পাশ্চাত্য অনুকরণের কথা বাদ দিয়ে দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ তার সাহিত্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ছিল। তাই দেশীয় প্রথায় তিনি সাহিত্যকে সুউচ্চ স্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি সাহিত্যের মাধ্যমে অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতি উৎসাহিত করার ঘোর বিরোধী ছিলেন। এবং যারা এই ধরনের সাহিত্যচর্চা করত তাদের কঠোরভাবে বিরোধিতা করতেন। তিনি সাহিত্যচর্চাকে ইবাদত, চরিত্র গঠন ও সংস্কারের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন।
আলি তানতাবি তার লেখা ইতিহাস বা প্রবন্ধে পাঠকদের সামনে শুধুমাত্র একগুচ্ছ তথ্য পেশ করতেন, এমনটা না। বরং তথ্যের সাহায্যে সঠিক মাত্রায় সাহিত্য যোগ করে কালজয়ী সব রচনাবলি উপহার দিয়েছেন।
আলি তানতাবি জীবনে ঘটে যাওয়া ছোট ছোট গল্প থেকে বাস্তব জীবনের দর্শন খুঁজে বের করেছেন। কোনো ধরাবাধা প্রবন্ধ পেশ করা নয়, বরং মনের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ করেছেন তার রচনায়।
তার দিনলিপি ও আত্মজীবনী গৎবাঁধা কোনো ডায়েরি নয়। বরং আধুনিক আরবি সাহিত্যে স্মৃতিচারণমূলক কাজের এক বিশাল মাইলফলক। এটি নিছক তার জীবনীও নয়, বরং বিংশ শতাব্দীর তৎকালীন আরব বিশ্বের এক জীবন্ত ইতিহাস।
সাধারণত আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের লেখা কিছুটা গম্ভীর বা কাটখোট্টা ধরনের হয়। আর সাহিত্যিকদের লেখা প্রায় সময় ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে দূরে থাকে। তবে আলি তানতাবি এক্ষেত্রে ছিলেন একেবারেই ভিন্ন। তিনি তার সাহিত্যকর্মে এ দুটির সমন্বয় করেছেন দারুণভাবে।
পাঠকের কাছে আরবি গদ্য জটিল শব্দ ও অলংকার শাস্ত্রের প্রয়োগ ছিল ব্যাপক আকারে। আলি তানতাবি এই ধারাকে ভেঙে সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় লিখতেন। শব্দ দিয়ে পাঠকের হৃদয়ে ছবি আঁকতেন। অক্ষরের সাহায্যে ঘ্রাণ, রংয়ের বর্ণনা দিতেন। ফুটিয়ে তুলতেন শত বছর আগের স্মৃতি।
সরাসরি কথা বলতেন কলমের কালি দিয়ে। নিজেদের ব্যক্তিগত ভুল, আবেগ, হাসি-কান্না, দুর্বলতাকে পাঠকদের সাথে ভাগ করতেন। যেন একজন সুহৃদ বন্ধু বা প্রিয় অভিভাবক। পাঠককে সাথে নিয়ে হাসতেন। গুরুগম্ভীর কথার মাঝে ছোট্ট একটি বাক্যের মাধ্যমে পাঠকের ঠোঁটে মুচকি হাসি ফুটিয়ে তুলতেন। আবার পাঠককে নিয়েই কাঁদতেন। মনে হতো, পাঠক তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের হৃদয়বিদারক কোনো বিবরণ শুনছেন। জার্মানিতে সন্ত্রাসী হামলায় তার মেয়ে বানাত তানতাবির মৃত্যু ও তার বর্ণনা বেদনাদায়ক ভঙ্গিতে তিনি তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন। তিনি দুঃখ কষ্টের কথা লিখতেন। তবে বিলাপের মতো করে নয়, বরং তার বর্ণনা পাঠকের হৃদয়ে ধীরে ধীরে বিষন্নতা তৈরি করত এবং বিরহের যন্ত্রণা অনুভব করতে পারত। এক্ষেত্রে তিনি মানফালুতির সাথে বেশ প্রতিযোগিতাই করেছেন।
আলি তানতাবির সাহিত্য শরতের পাতাঝরা বিকেলে দীর্ঘ বিরতির পর আত্মার কাছের অকৃত্রিম বন্ধুর সাথে জমে থাকা গল্প বলার মতো। যেখানে কথা বলতে কোন নিয়মের বাধা থাকে না। হাসতে মানা থাকে না, কাঁদতে লজ্জাও করে না। যার সামনে লাভ-লোকসানের কোন বালাই নেই। যেখানে অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিই হচ্ছে মূল।
আলি তানতাবিকে নিয়ে আমাদের দেশে অল্প-বিস্তর কাজ হয়েছে। দু-একটি স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সহ বেশ কয়েকটি লাইব্রেরি তার কিছু প্রবন্ধ ও বই অনুবাদ করেছেন। আমরা তাদের পরিশ্রমকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই।
তবে অনুবাদের ক্ষেত্রে প্রায় অনুবাদকই তার লেখার নার্ভ ধরতে সক্ষম হননি। অনেকেই আক্ষরিক অনুবাদের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। কেউ কেউ আলি তানতাবির লেখার ভাবানুবাদ করতে গিয়ে অনুবাদকের নিজের লেখার ধরন প্রকাশ করে ফেলেছেন। আবার কেউ তানতাবির লেখা ‘জনতার মাঝে’ আনতে গিয়ে খুবই বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
হয়তো অনেকেই পর্যাপ্ত সময় ও যত্ন পাননি অথবা প্রকাশকের মর্জি মোতাবেক কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে আলি তানতাবিকে সঠিক ভাবে বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে উপস্থাপন করা গেলে পাঠকমহলে তা সমাদৃত হবে। আলি তানতাবির রচনা পড়ার মতো একটি প্ল্যাটফর্ম বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে তৈরি হয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিকভাবে আলি তানতাবিকে উপস্থাপন করা। এর জন্য পর্যাপ্ত সময়, দক্ষ অনুবাদকের দল ও তার ধারণা নিয়ে এক প্রকারের সাধনা করার প্রয়োজন। পাশাপাশি তার লেখাগুলো জাতীয় দৈনিক ও মাসিক সাময়িকীতে সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তি আকারে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা সময়ের দাবি।