নিজেকে ভালোবাসার পর
আরো একবার
নিজেকে ভালোবাসার পর
উত্তীর্ণ অক্ষরে দুঃখবোধ লিখতে গিয়ে
একটা দীর্ঘ পথের কথা লিখেছি শুধু
লিখেছি কিছুই করার থাকে না একটা মিছিল শেষে
নিজেকে সংস্কারের কথা ভাবি না আর
শুধু উন্মুখ হয়ে থাকি
আরো হিম কিছু সন্ধ্যায়,
বিভ্রান্ত সব প্রসঙ্গে একাকি হেসে উঠা যাবে,
হয়তো উদাস বসে থাকা যাবে
আর একটা
শূন্য সুরে শ্রান্ত হয়ে আসবে হৃদয়
তোমার আসা-যাওয়া ভ্রুক্ষেপহীন হয়ে উঠবে না।
ভালোবাসি
ভালোবাসি এইসব বিরহ
মহুয়ার ছায়া
উদার কণ্ঠ
ভালোবাসি ধীরে ধীরে
নক্ষত্র ও মহাকাল
সাগর, নদী, পথ
ভালোবাসি নিখিল ছায়াছবি
জীবন যায় যায় দিন
সাদাকালো আর রঙিন
ভালোবাসি প্রার্থনা, ওগো দয়াময়
ইশকের ভেতরে রেখো হাশর-নাশর
আর এই ব্যর্থ কবির হৃদয়
এমন অঘ্রাণে
এমন অঘ্রাণে
একটা ডাহুকীর গান শুনতে পারি
বাতাসে ভেসে আসে আবহমান স্রোত
টিকটিক, যান্ত্রিক হয়ে গেছি সেই কবে
চেনা ডাকপোস্ট, ভিড় পথঘাট আর লোকালয় সব ছেড়ে
আমি এসেছি উড়ে নিজের কাছে
আমি এসেছি এই হাওয়ালেখা ভ্রমের ভেতর
আমি এসেছি সব ছেড়ে
তোমার দেওয়া নির্লিপ্ত ব্যথার কাছে
আর কিছুই ছেড়ে আসিনি জানি
আমার তো কিছুই ছিলো না আর
কেবল দৃশ্যের ভেতর যা কিছু ভাবি
তোমার দেওয়া দুঃখগুলো চারপাশে জেগে ওঠে
বক্রতা
তবু বুকের ভেতর চিরসবুজ উন্মাদনা।
অপরিবর্তিত ভাবনার বাতায়ন।
আমরা ভুলতে পারি না তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কথা।
কে কবে বলেছে নানান আলাপ
কে কবে মনে রাখেনি
কে কবে ছেড়ে গেছে
আর সময়ের সাথে সাথে এই হেঁটে চলা
উদযাপনের মতো লাগে
ভাবি
তবু একটা ফুল
চতুর্মুখী বক্রতায়—সুবাস হয়ে ফোটে
তোমার দিকেই ছুটে যাই
মেকি এইসব হাওয়া
আর তার ভেতর দিন কিছুই ভালো লাগে না
মনে হয় যেনো ভ্রম আর দুঃস্বপ্নের ভেতর
একটা ভাঙা আয়নার টুকরো হয়ে আছি
মনে হয়, বলবার মতো কোন কথা নেই
যাওয়ার মতো কোন গন্তব্য নেই
অথচ আমি জানি দুঃখ পেয়েও ফের
তোমার দিকেই ছুটে যাই প্রতি মুহূর্তে
যেন সারাটা মসজিদ ফাঁকা, আর আমি দূরন্ত শৈশবে