একটি অলোকসুন্দর সময়ের হাত ধরে আমরা হেঁটে চলেছি। আমাদের কেউ নেই, তবু এভাবে জীবনের একটিমাত্র উত্তরের অপেক্ষা আমাদের প্রতিদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। আমরা জেগে দেখি চারপাশে কেউ নেই, তবু জানলা হতে খানিক বিমর্ষ আলো এসে ছড়িয়ে পড়েছে আবার, ঠিক এখান থেকেই যাপনের গভীর অবগাহন শুরু হয়েছিল।
শীত এলেই কলকাতার দিনগুলো আমাকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দেয়। কবে যাব আবার কলকাতা! সেইসব মোহনার দাপুটে হাওয়াগুলো!
বহুদিন ফিরে যেতে চেয়েছি। পারিনি, কখনো কথা ফুরিয়ে যায়, কখনো পথের বাঁকে মিলিয়ে যায় হেমন্তের শেষ দিন। সবকিছু ছেড়ে দেব ভাবি। সারাদিন এত কাজ সেরে ওঠা যায় না। আরও একাকী, আরও নির্জন পাহাড়ের গা ছুঁয়ে চলে যেতে চেয়েছি, নাগরকোট বা দার্জিলিঙের একটি শীতের সকাল। কারও সঙ্গেই কথা বলতে চাই না আর, আমার ভালো লাগে না এমন। বারবার হারিয়ে যাওয়ার পর আবারও ফিরে আসার মতো ব্যঞ্জনা আমি চাই না সত্যি। যে পথে যেতে হয়েছে তোমাকে, তুমি আর এসো না। এখানে যে ভোরের হাওয়ারা এসে আমার সঙ্গে কথা বলে, তারচেয়ে স্নিগ্ধ সময় পৃথিবীর কোথাও নেই।
আমি জানি, আমার লেখাগুলো একটি ফ্যাকাশে জীবনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কিন্তু লেখকের ক্ষুধার্ত মস্তিস্কের সঙ্গে তুমি আর কীইবা তুলনা করতে পারো! আমার ভেতরের যে নীরবতা, যে পৃথক পথের দিকে আমি হেঁটে চলেছি, সেটির শেষ কেবল আমারই জানা আছে। এবার আসি।
অসাধারণ গদ্য। ভাবনার ভেলায় ভাসিয়ে আরো দূর গহীন কল্পনায রূপান্তরিত করে।