বাগানবিলাসের হাসি
দুনিয়ার কমে এলো আয়ু।
আমরা কবিতার নামে
বেঁচে দিচ্ছি মানুষ, মানুষের মন;
মসনদের লোভে ছড়িয়ে দিচ্ছি বিষ
বউ-সন্তানের দেহে।
তারপর সুযোগ এলে বলছি–
‘আমরা তো কেবল ভালোর দলে।
আমরা দুনিয়ার বুকে ফোটাবো
সহস্র বাগানবিলাসের হাসি।
আমরা পূজারি প্রগতির।’
দুনিয়ার বুকে শ্বাস নেবার মতো
হাওয়া নেই আর।
বৃদ্ধ, বোকা পৃথিবীর শরীরজুড়ে
শুয়োপোকাদের বসতি।
ঠিক তার পাশে বসে
আমরা গলা চড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছি—
‘আমরাই তো সেবক মানবতার।
মানব-মু্ক্তির এ সংগ্রাম চলবে
পৃথিবীর শেষ নিঃশ্বাস অবধি।’
মায়ের ফোনকল
আমি কি ফিরব আবার?
যেভাবে ফিরে আসে ফাগুনের দিন?
নরম শীতের পর
জমিনচেরা বোশেখের রোদ?
এবং বহু শ্রান্তির শেষে
একটা বড় উৎসবের ছুটি?
আমি কি ফিরব আবার?
যেমন ফিরে আসে ঘরে
প্রিয় কাকাতুয়া, লেজঝোলা পাখি,
ঝিঁঝি পোকাদের দল?
কিংবা শহুরে ব্যস্ততার মাঝে
একটা ফোনকল মায়ের?
আগুনের রোষ
স্বভাবেই পাশ ফিরে শুই
অথবা অভাবে;
রাতমেল জমে ইনবক্সে।
একাই একটা
আসমান কাঁধে তুলে হাটি
অথবা দাঁড়াই।
যোগছিন্ন এই সময়ের
যোগাযোগ যেনো
আমাকেই উদ্দিষ্ট ভেংচি।
স্বভাবেই পাশ বদলাই
অথবা অভাবে।
এ আমার অসুখে বিলাপ?
নিত্য ঘর পোড়া
শবঘ্রাণ শুঁকছে মগজ
অথচ পৃথিবী
নিপুন নীরবতায় মেতেছে।
আগুনের রোষে
কারও ছাই হয় হৃদপিণ্ড।